লন্ডনে ব্লগারদের আড্ডাঃ কাউকেই ধন্যবাদ দেয়া হয়নি!

25/09/2013 16:24
 
ফেব্রুয়ারির বই মেলার কিছু বই জামীল ভাই আমার জন্যে পাঠিয়েছেন। ফেবু’তে জানালেন মাটির মায়না ভাইয়ের কাছে থেকে সংগ্রহ করার জন্যে। আমি তারিখ করি, আজ কাল বলে জামীল ভাইকে বুঝ দেই। লন্ডনে আর যাওয়া হয়না। জামীল ভাইয়ের বার্তা দেখলেই ভয়ে ভয়ে থাকি। অতঃপর রমজানে সামান্য সময়ের জন্যে (একটা ইফতার পার্টিতে যোগ দিতে) লন্ডন সফর কিন্তু ময়না ভাইয়ের সাথে আর যোগাযোগ করা হয়না। 
 
অতঃপর বিখ্যাত নাইন এলিবেন মানে সেপ্টেম্বরের এগারো তারিখ সন্ধ্যা ছয়টা চুয়ান্ন মিনিটে জামীল ভাইয়ের বার্তা। মনটা আনন্দে নেচে উঠল। যেমনটা আমার নিজের পরিবারের কেউ লন্ডনে বেড়াতে আসলে হয়। কিন্তু জামীল ভাই যে সাপ্তায় আসলেন সেই সাপ্তায় আমাকে স্কটল্যান্ড যেতে হবে তাই আর লন্ডন যাওয়া হচ্ছে না। এদিকে ফোনে জামীল ভাইকে পাচ্ছিনা। সামি ভাই জামীল ভাইয়ের নাম্বারটা বার্তা করলেন আবার। অবশেষ জনাবের সাথে কথা হল। সামী ভাইকে ধন্যবাদ দেয়া হয়নি এখনও!
 
 
আড্ডার শুরুতে......।
 
বাইশে সেপ্টেম্বর, জার্নি টু লন্ডন! রাতে জামীল ভাইকে আবার ফোন দিলাম। আমি আসছি! কথা হল আমি ইস্ট লন্ডন মসজিদে জোহরের সালাত আদায় করব। পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই যাত্রা লন্ডনের পথে। লন্ডনে প্রবেশের পূর্বেই একটা স্টেশনে ট্রেনের নিচে ঝাপ দিল একজন। মরবি মর কিন্তু আমার ট্রেনের নিচে পড়ার দরকার কি!! সব গেল উলট পালট হয়ে। সেই সাথে জামিল ভাইকে ফোনে পাচ্ছিনা! অবশেষ লন্ডনে পৌঁছলাম তিনটা পনের মিনিটে! জামীল ভাইকে জানালাম আমি হোয়াইট চ্যাপেলে আপনার জন্যে অপেক্ষা করছি। 
 
 
জাতির চিপায় জাতি
 
অবশেষ তিনি এলেন। লন্ডন রয়্যাল হসপিটালের সামনে বাস থেকে নেমেই জড়িয়ে ধরলেন। কতদিন পর কেউ অমন করে ধরল। কেন জানি হঠাৎ করেই প্রিয় কিছু মানুষের কথা মনে পড়ে গেল। যখন ছাড়লেন তখন বললেন আমার পান খেতে হবে। হায়রে পান! আমি বললাম সকাল থেকে আমি কিচ্ছু খাইনি চলেন আগে সামান্য কিছু খেয়ে নেই। জামীল ভাই খেয়ে এসেছেন তাই তিনি কিছু খেলেন না শুধু আমর সাথে সঙ্গ দিলেন। কলাপাতা (রেস্টুরেন্ট) থেকে বের হয়ে জামীল ভাইয়ের জন্যে পান......। অতঃপর দুই ভাই হেটে হেটে চলে এলাম আলতাব আলী পার্কে। শেষ বিকালের দিকে আমাদের সাথে যোগ দিলেন রিয়া আপু, আয়ান (রিয়া আপুর বেবী) আর মাটির ময়না ভাই। জমে উঠল আড্ডা। একথা ওকথা করে চলে এলো ফেইসবুক, ব্লগ, আসছে বই মেলা সব। সব গুলো মানুষের সাথে এটাই আমার প্রথম দেখা। অথচ একবারের জন্যেও অস্বস্তি ফিল করিনি! মনে হয়েছে কত পরিচিত, কত আপনজন। কথা বলা, গল্প, আড্ডার মধ্যে কোন গ্যাপ ছিল না। রিয়া আপুকে যারা সরাসরি দেখেনি তাদের জন্যে একটা তথ্য দেয়া দরকার। অসম্ভব মিশুক প্রকৃতির মেয়ে। একটা আড্ডা দরকার? এরকম একজন হলেই জমে যাবে। ময়না ভাই খুবই আন্তরিক মানুষ। উনি আমার জন্যে প্রায় বিশ কেজি ওজনের অনেক গুলো বই বয়ে নিয়ে আসলেন। একটুও অভিযোগ নাই। আমিও লোকটাকে ধন্যবাদ দেইনি! ময়না ভাইকে ধন্যবাদ দিতে ইচ্ছে হয়নি। মনে হয়েছে হয়ত সেটা অনেক ছোট হয়ে যাবে!! আড্ডা পর্বের মাঝখানে চলল ছবি পর্ব। একদম শেষের দিকে এলেন ব্লগার শিরোনামহীন ভাই। ভাইটি আমাকে স্টেশন পর্যন্ত লিফট দিয়ে ছিলেন তাকেও ধন্যবাদ দেয়া হয়নি! আর জামীল ভাইকে নিয়ে কিছু বলতে হবে ? চুম্বক চেনেন? চিনলেই হইল! আমি কি আর সাধে এত লম্বা ট্রেন জার্নি করে লন্ডনে গিয়ে ছিলাম!! 
 
 
কে বা কারা মাটির ময়না ভাইয়ের আঙুল কেটে দিয়েছে। এব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। 
 
এত কিছু বলার পরেও একটা কথা বাদ থেকে যায়। রাতে লন্ডন থেকে সাসেক্স যেতে হবে। ট্রেন উঠেই জামীল ভাইয়ের বিলেতের হাওয়া বইটা পড়লাম। এক নিমেষেই! অতঃপর জামীল ভাইয়ের হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে লেখা কলাম পড়তে লাগলাম। লেখাটা তিনি শেষ করেছেন এভাবে,“রবিন্দ্রনাথের কদম্ভিনি মরিয়া প্রমান করেছিল সে মরেনাই। সে তো ছিল ভাব’র মরা। আর আপনি! আপনি সত্যি সত্যি মরিয়া প্রমান করিলেন আপনি মরেননি। অমর হয়ে গেছেন। আপনাকে আমরা কি করে ভুলি প্রিয়। আপনি আমাদের জোসনা দেখতে শিখিয়েছেন। জোসনার বৃষ্টিতে ভিজতে শিখিয়েছেন”।
 
চোখ পানিতে ভরে গেল। কিন্তু তার চেয়েও বড় ধাক্কা আমার জন্যে অপেক্ষা করছিল। ট্রেন থেমেছে। প্ল্যাটফর্মের দিকে তাকালাম কোথায় আসছি দেখার জন্যে। ওমা! একি!!! আমি যে স্টেশনে নামার কথা সেটা ফেলে চলে এসেছি! তাড়াতাড়ি ট্রেন থেকে নামলাম। ঘড়ির কাটায় রাত ১ টা ৩০ মিনিট। ডিসপ্লে চেক করে দেখলাম রাতে আর কোন ডাউন ট্রেন নেই। গ্রামের স্টেশন। কেমন ভূতুড়ে! চারপাশ কেমন নিরব। তার পরে আবার পাশেই সিমেট্রি! এই বুজি কেউ একজন এসে আমার গাড় মটকে গেল! 
 
 
আয়ান মামার সাথে পোজ 
 
 
এক ফ্রেমে সবাই 
 
 
আয়ান এভাবে জামীল ভাইকে দেখছে কেন?