মরিচিকা

26/06/2013 03:17

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগে তরুন প্রজন্মের গর্জে উঠা ভাল লাগছে। অন্তত নিরপেক্ষ ভাবে বললে তাই বলতে হবে। কিন্তু সমস্যা সেখানে নয়। সমস্যা তাদের দাবি নিয়ে। রায়ের জন্যে তারা উদ্ভট ভাবে সরকারকে দায়ী করছেন। রায় তো সরকার দেয়নি, রায় দিয়েছে ট্রাইবুন্যাল! আন্দোলন হবে বিচারপতির বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে নয়! নাকি তারা সেটাই বোঝাতে চাচ্ছেন যে সরকার চাইলেই ফাঁসি সম্ভব। তাদের দাবি প্রমান করে সরকার ইচ্ছে করেই ফাঁসির রায় দেয়নি। ভাল করে লক্ষ্য করুণ! আমি বিচারপতি না বলে সরকার বলেছি। তার মানে কি দাড়ায়? ট্রাইবুন্যাল একটি নাট্যমঞ্চ এবং সরকার সেই নাটের গুরু!

 

শাহবাগে যারা যাচ্ছেন তাদের কেউই রাজনৈতিক মানসিকতা নিয়ে যাচ্ছেন না। অন্তত আমাদের তরুন প্রজন্মের প্রতি এতটুকু বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধাবোধ আমার আছে। আমরা বিশেষ কোন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে বিচার চাইনা। আমরা রাজাকার, আল বদরদের বিচার চাই। সে যে দলেরই হোক, তার বিচার চাই। তাহলে আওয়ামীলীগের ছায়াতলে যে রাজাকাররা আছে তাদের বিচারের আওতায় আনা হয়নি কেন? আমরা তরুন প্রজন্ম কি এক বারের জন্যেও এই বিষয়টি খেয়াল করেছি? তাহলে আমরা কিসের জন্যে শাহবাগে যাচ্ছি। জাতীয় এই ইস্যু নিয়ে সরকার শুরু থেকেই রাজনীতি করছে। আমরা কি বিব্রান্ত হচ্চিনা?  

 

এখানে এটাও উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল স্যার তার লেখা একটি কলামে লিখেছেন,  যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য প্রণীত ১৯৭৩ সালের আইনটি এমন যে আপিলে এই শাস্তি কমতে পারে, কিন্তু বাড়ার কোনো সুযোগ নেই। ট্রাইব্যুনালের রায়ে শুধু যে একটি অভিযোগ থেকে কাদের মোল্লাকে খালাস দেওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। কিন্তু তিনি অব্যাহতিই পেয়েছেন যে অভিযোগ থেকে, আপিলে নতুন কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে আপিল শুনানির পর তাতে তাঁর অন্তত মৃত্যুদণ্ড হওয়ার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। যাঁরা এই প্রবোধ দিচ্ছেন, তাঁরা ক্ষুব্ধ জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন। গণহত্যার অপরাধে কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের কোনো যৌক্তিক সম্ভাবনা আর নেই।

 

সবচেয়ে আশ্চর্যের কথা হচ্ছে, পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কলাবরেটর এ্যাক্ট এর অধীনে শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার ১৯৭৩ সালে লক্ষাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে ৩৭,৪৭১ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়। এবং ৩০,৬২৩ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে অভিযোগ প্রমাণ করা যায়নি। মাত্র ২,৮৪৮ জনের বিচার হয়। এর মধ্যে ৭৫২ জন দোষী সাব্যস্ত হয়। সেখানে কেন আজকের এই রাজাকার আল বদরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়নি? প্রশ্নই থেকে যায়!

 

সবশেষে এটাই বলতে চাই, আমি রাজাকার, আল বদরদের বিচার চাই। সে যে দলেরই হোক। সে যেন ন্যায় বিচার পায়। কিন্তু বর্তমান ট্রাইবুন্যাল সরকার দ্বারা প্রভাবিত এটা মানতেই হবে। স্কাইপি ক্যালেংকারি প্রমান করেছে সরকার কি চায়, কিভাবে চায়। কাজেই দয়া করে বিভ্রান্ত হবেন না। আমরা চাই বিচার স্বচ্ছ ভাবে হোক। কিন্তু বাস্তবে কি তা সম্ভব? আমার অন্তত মনে হয় না। বরং আমার মনে হয় সরকার ইতিহাস নিয়ে খেলছে আর আমরা বিভ্রান্ত হচ্ছি। 

 

শাহ্‌বাগের জনসমুদ্র দেখে মনে আশা জেগেছিল। দেশের তরুণরা আবার জেগে উঠেছে। দেশে মনে হয় এবার অশ্লীলতা নির্ভর রাজনীতির সমাপ্তি হবে। কিন্তু শাহ্‌বাগের আজকের সমাবেশ দেখে খুব হতাশই হতে হল। আন্দোলন শুরু হয়েছিল ব্লগ এবং ফেইসবুক থেকে। সেখানে আজ আমরা কি দেখলাম? মঞ্চ জুড়ে ছিলো ছাত্রলীগ আর আওয়ামীলীগের দৌরাত্ব! চরমপত্র পাঠ করা ব্লগার ইমারান যিনি কট্টর আওয়ামীলীগ সমর্থক। শুধু তাই নয়, ইমরান সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ‘রাজাকার’ অভিহিত করে সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়া উদ্যানে অবস্থিত শহীদ জিয়ার মাজার নিয়েও কটাক্ষপূর্ণ ও আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।  ইমরান তার ফেসবুক https://www.facebook.com/dr.imran.bd-এ জিয়াউর রহমানকে কটাক্ষ করে স্ট্যাটাস এ লিখেছে, 'জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে রাজাকারের কবর রেখে এই পূজা আর কতদিন? এ সার্কাস আর দেখতাম চায় না প্রজন্ম...এই শালাদের কোনো নিশানা রাখা যাবে না এই বাংলায়।’

 

জনসভায় আওয়ামী ঘরনার বুদ্ধিজীবীরা যে কায়দায় বক্তব্য রাখলেন তা দেশকে ভিবক্ত করে গৃহ যুদ্ধের দিকে নিয়ে জাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইসলামী ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, ইবনে সিনা হাসপাতাল, ইবনেসিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, দিগন্ত মিডিয়া লিমিটেড, রোটিনা কোচিং সেন্টার ও ফার্মাসিউটিক্যালসহ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মালিকানাধীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দখল বা সেগুলো বাজেয়াপ্ত করে জাতীয়করণের ডাক দেয়া হয় মহসমাবেশে। এখন কথা হচ্ছে একটি রাজনৈতিক দল যেখানে ভিবিন্ন ভাবে সমাজ সেবায় নিয়জিত সেখানে তাদের সেই প্রতিস্টান ভেঙে দেশের কি লাভ হবে আমার মাথায় আসেনা। ছাত্রলীগ ধর্ষণের সেঞ্চুরি করলে তাদের কিছু যায় আসেনা, রাস্তায় দিনে দিবালোকে কুপিয়ে মানুষ হত্যা করলে তাদের কিছু যায় আসেনা কিন্তু ছাত্র শিবির-জামাত জনসেবা করলেই তাদের যত সমস্যা।

 

শাহবাগের কাহিনী দেখে সাবেক বিচারপতির স্কাইপি সংলাপের কথা মনে পড়ছে। তিনি বলেছিলেন, আপনি দাঁড়িয়ে যাবেন আমি ধমক দিয়ে আপনাকে বসিয়ে দেব, সবাই বুজবে আপনার আমার কোন খাতির নেই।

 

আশ্লিল রাজনীতি আমাদের রক্তে মিশে গেছে।