আমি যে কারনে আওয়ামীলীগের রাজনীতি পছন্দ করিনা

26/06/2013 03:09

আমি শুরু থেকেই কেন জানি আওয়ামীলীগের রাজনীতি পছন্দ করিনা। বিশেষ করে ছাত্রলীগের রাজনীতি। এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। একজন মানুষ হিসাবে আমার ব্যাক্তিগত মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। আমি সেটা সংরক্ষণ করি।

 

পারিবারিক ভাবে আমরা খুব বেশি ইসলামপন্তি বলা যায়। সেই বলা যাওয়ার পেছনে অনেক গুলো কারন আছে। আমি সেদিকে যেতে চাচ্ছিনা। এখন প্রশ্ন হতে পারে বাংলাদেশে এত দল থাকতে একমাত্র আওয়ামীলীগ কে আমি এত অপছন্দ করি কেন? আসাই স্বাভাবিক। আসা উচিৎ! যে অনেক গুলো কারনের জন্যে আমি আওয়ামীলীগ কে অপছন্দ করি তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপছন্দ করি কারন বাংলাদেশে আওয়ামীলীগই একমাত্র দল যারা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে। আওয়ামীলীগের এই মৌসুমি ধর্ম রাজনীতির সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। কাজেই এব্যাপারে বিস্তারিত বলার প্রয়োজন বোধ করছি না। দ্বিতীয়ত এদের ধর্ম নিরপেক্ষতা নামের অসভ্য মতাদর্শের কারনে। একে অসভ্য মতাদর্শ বলছি কারন এরা এই বিশেষ ধর্ম দিয়ে সকল ধর্মকেই হেয় করেছে। এরা মনে করে দেশের প্রতিটি স্তর থেকে ইসলামকে সরানো মানেই ধর্ম নিরপেক্ষতা। পৃথিবীর কোন ধর্মেই নেই যে অন্য ধর্মে হস্তক্ষেপ করতে হবে। কাজেই এরা এই ভ্রান্ত ধারনা দিয়ে এক ধর্মহীন সমাজ গড়ার কল্পনা করছে। সেই ধর্মহীন সমাজে কোন নিয়ম থাকতে পারেনা। কারন নিয়ম মানেই ধর্ম। যেখানে পশুরাও নিয়ম মেনে চলে সেখানে ধর্মহীন সমাজের কল্পনা করা সত্যি কষ্টকর। অন্তত আমার পক্ষে। এদের একজন মন্ত্রী বলেছিলেন উনি হিন্দুও না আবার মুসলমানও না!

 

এদের ভারত প্রিতিটাও  আমি একদম সহ্য করতে পারিনা। ১৯৭১ সালে যারা পাকিস্তানকে সমর্থন করেছিল আমরা তাদেরকে যেমন রাজাকার বলি ঠিক তেমনি সমান অপরাধে আওয়ামীলীগকে আমি রাজাকার মনে করি। আর শেখ হাসিনা হচ্ছেন সেই দালালদের সর্দারনী।

 

এই দলটিই বাংলাদেশে গনতন্ত্র হত্যা করে বাকশাল কায়েম করেছিল। শুধু তাই নয় বর্তমানেও তারা তা অব্যাহত রেখেছে। সাংবাদিক নির্যাতন, সংবাদ প্রকাশে বাধা, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল গুলোকে সভা-সমাবেশ করতে বাধা প্রদান, রাজনৈতিক কারনে গ্রেফতার, গুম, হত্যা এমন কোন হীন কাজ নেই এ সরকার করেনি। বর্তমানে আমার দেশ পত্রিকা এবং তার পরিবার, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার গুম হওয়া এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

 

বর্তমান সময়ে যোদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে সরকার যা করছে তা কোন ভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়। আমরা সাধারণ জনগন প্রকৃত যোদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই। এটা সময়ের দাবি। জাতি হিসাবে এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু সরকার জনগণের এই স্পর্শ কাতর ইস্যু নিয়ে শুরু থেকেই রাজনীতি করে আসছে। ইতঃমধ্যে ইকনমিস্ট, দৈনিক আমার দেশ এবং সংগ্রাম তা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেছে। আমরা একটি অপরাধের বিচার করতে গিয়ে আরেকটি অপরাধ করছি। আমরা ন্যায় বিচার চাই, কিন্তু সরকার রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে ব্যাস্ত।

 

আমার দেশের সম্পাদক খুব সুন্দর করেই বলেছেন ১৯৭১ সালে আওয়ামীলীগ মুক্তি যুদ্ধ করেনি। তাদের সকল নেতাই ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন। শেখ মুজিব নিজেও বন্ধী ছিলেন। অথচ আমার মনে হ্য় এরা মুক্তি  যোদ্ধকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যাবহার করে। শুধু তাই নয়, শেখ হাসিনার চত্র ছায়ার অনেকেই মুক্তি যোদ্ধাদের নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। ইভেন শেখ হাসিনা নিজেই বলেছেন জিয়া ঘটনা ক্রমে মুক্তি যোদ্ধা! যিনি মুক্তি যোদ্ধাদের সম্মান করতে জানেন না তিনি কি করে মুক্তি যোদ্ধ নিয়ে কথা বলেন আমার মাথায় আসেনা।

 

এত কিছুর পরেও কয়েকটা কথা না বললেই নয় আর তা হল  আমি বিশেষ কাউকে উদ্দেশ্য করে এই কলাম লিখিনি। আমার ফেস বুক ফ্রেন্ড লিস্টে অনেকেই আছেন যারা আওয়ামী মতাদর্শে বিশ্বাসী। তাদের কাউকে হেয় করার জন্যে আমার এ লেখা নয়। তাদের ব্যক্তিগত মত কে আমি শ্রদ্বা করি। আমার এমন অনেক পরিচিত বন্ধু আছেন যারা আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আমি এখনও তাদেরকে নিজের বড় ভাইয়ের মতোই সম্মান করি এবং ইনশাআল্লাহ্‌ সারা জীবন করে যাব। শুধু তাই নয় এদের ব্যাবহার আমাকে সবসময় মুগ্ধ করে। এখানে কয়েকজনের নাম উল্লেখ না করলেই নয়, যেমন- জিকু ভাই, নজরুল ভাই, দারা হাসান পলাশ ভাই যারা আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। কিন্তু এ ভাইদের সাহায্য, সুন্দর ব্যাবহার সবকিছুর উপরে, সবসময়।  সেই সাথে বি এন পির রাজনীতির সাথে জড়িত লোকমান ভাই যার কথা না বললেই নয়। প্রিয় এই ভাইটি সব সময় দেখা হলেই খুঁজ নিতেন পড়া কেমন চলছে। বাসার সবাই কেমন আছে ইত্যাদি। আমার ফেস বুকে কয়েকজন ব্লগ বন্ধু আছেন যাদের কথা না বললে অসমাপ্ত থাকা হবে। বিশেষ করে রশীদ জামীল ভাই, সাজ্জাদ হোসেন দোসর ভাই, আছিব ভাই, কাবুল ভাই, জহির ভাই, ইমরান ভাই যারা রাজনৈতিক পরিচয়ের উপরে এসে একে অপরকে আপন করে নিয়েছি বন্ধু হিসাবে। তার পরেও কয়েকজন আছে যারা যেচে ঝগড়া করতে আসে। এরা মনে করে কথার নোংরামি দিয়ে হারাতে পারলেই সকম মজা। এরা কখনোই যুক্তির পাশেও যাবেনা। অজতা খারাপ কিছু শব্দের পুনঃপ্রয়োগ ছাড়া। কুকুর ঘেউ ঘেউ করবে এটাই স্বাভাবিক! এদের কথায় কান না দিলেই হয়।