আওয়ামীলীগের ধর্ম রাজনীতি এবং ধর্ম নিয়ে রাজনীতি

01/08/2016 00:36

আল কোরআনে রাষ্ট্র পরিচালনা কিভাবে করতে হবে তা অত্যান্ত সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেই সাথে মদিনায় হিজরতের পরে আল্লাহর রাসুল সাঃ রাষ্ট্র গঠন করেছেন এবং ইসলামের আলোকে সেই রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে। আল্লাহর রাসুলের ইন্তেকালের পরে ইসলামী রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাচন করা হয়েছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় আল্লাহর রাসুলের শিক্ষা অনুসরণ করা হয়েছে! বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বেশ কিছু ধর্ম ভিক্তিক দল রয়েছে যারা নিজেরা একই আলোকে রাজনীতি করছে বা করার চেষ্টা করছে। হয়ত একেক দলের কর্ম পদ্ধতি একই রকম নয় তবে সকলের লক্ষ্যই এক! ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা!

ধর্ম ভিক্তিক দল শুধু বাংলাদেশে নয় পার্শ্ববর্তি দেশ ভারত, পাকিস্তান, এমনকি ইউ কে আমেরিকাতেও আছে! শুধু তাই নয় অনেক দেশেই ধর্ম ভিক্তিক দল রাষ্ট্র পরিচালনা করছে! তবে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার বেশ কয়েকবার ধর্ম ভিক্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে এবং এখনও করছে!

আওয়ামীলীগ নিজেই একটি ধর্ম ভিক্তিক দল ছিল! শুরুর দিকে আওয়ামীলীগ আওয়ামী মুসলিম লীগ হিসাবেই পরিচিত ছিল! তবে শেখ মুজিব দলটির প্রধান হবার পর থেকেই মুলত আওয়ামীলীগ’এ মেরুকরণ শুরু হয়! শেখ মুজিবই প্রথম আওয়ামীলীগ’এ সেকুলারিজমের সূচনা করেন। একটি ধর্ম ভিক্তিক দল থেকে সেকুলার আওয়ামীলীগ অতঃপর মুজিবের নিহত হবার পর একটা লম্বা সময় বিরতি দিয়ে যখন আওয়ামীলীগ আবার রাজনীতি শুরু করার অনুমতি পায় তখন শেখ হাসিনার হাত ধরেই আওয়ামীলীগ প্রথম বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিল যা এখনও বিদ্ধমান রয়েছে। শেখ হাসিনাই হাতে তাসবিহ এবং মাথায় পট্টি বেধে মানুষের কাছে ভোট ভিক্ষে চেয়েছিলেন। অতঃপর নির্বাচনে জয়লাভ করে মাথায় সিঁদুর পড়েছিলেন। থাই প্রেসিডেন্টের চুমু খাওয়ার জন্যে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

মুজিবই প্রথম দলের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে সেকুলারিজমের শুরু করেছিলেন তারই ধারাবাহিকতায় ধর্ম নিরপেক্ষতার নাম নিয়ে আওয়ামীলীগ যেখানেই ইসলাম, মুসলিম শব্দ পেয়েছে সেখান থেকেই তা মুছে দিয়েছে! কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে ইসলাম শব্দ এরাই মুছে দিয়েছিল! ফজলুল হক মুসলিম হল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল থেকে একই ভাবে মুসলিম শব্দটি এই আওয়ামীলীগই মুছে ফেলেছে। এরাই সংবিধান থেকে ইসলাম ধর্ম, আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস উঠিয়ে দেবার চেষ্টা করেছিল। এই স্যার সলিমুল্লাহ্‌ ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের জন্যে নিজের জমি দান করেছিলেন! যেখানে রবি বাবু সরাসরি ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার বিরুধিতা করেছিলেন সেখানে তার জয়ন্তী পালন করা হলেও উপেক্ষা করা হয় স্যার সলিমুল্লাহ্‌ কে! সত্যি সেলুকাস!!!

আজ খুব অবাক আর দুঃখিত হই যখন কিছু কিছু মিডিয়া মুজিবের নিহত হবার দিনকে মুজিবের শাহদাত দিবস হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার হীন চেষ্টা করে! অতচ আওয়ামিলীগ নিজ দায়িত্বে সেই কবে মুজিবের নাম থেকে রহমান শব্দটি মুছে দিয়েছে! এইতো কিছু দিন আগেও মুজিবের নামে শহীদ শব্দ জুড়ে দেয়া না হলেও এখন প্রায়ই চেষ্টা করা হচ্ছে! বলি এবার একটু থামুন! কি দরকার মরে যাওয়া যে মানুষটা সারাজীবন ধর্ম নিরপেক্ষ থাকতে চেয়েছিল তার গায়ে ধর্মের লেবাস পড়ানোর?

বর্তমান সময়ে আওয়ামীলীগ অত্যান্ত সুচতুর ভাবে তথ্য সন্ত্রাসের মাধ্যমে অনলাইন থেকে দলটির অনেক কু কর্ম মুছে ফেলছে! এখন চাইলেই আপনি অনলাইনে আওয়ামীলীগের অনেক কু কীর্তি আর খুজে পাবেনা না! পাবেন না অনেক দলিল আর ছবি!! বিশ্বাস না হলে গুগলে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন!!

সব শেষে এটাই বলতে চাই! নিজের বিবেককে বিক্রি করে দিয়েন না! টাণ্ডা মাথায় চিন্তা করুন! সত্য খুজে বের করার চেষ্টা করুন! নিজের বিবেককে অন্যের দ্বারা কেন শাসিত করবেন ভাবুন! মুক্তচিন্তা করুন! ভেড়ার পালের ভেড়া না হয়ে সাদাকে সাদা বলুন!